নিয়ামতপুরে বৃষ্টির আগে খড় তুলতে কৃষক পরিবারের সাড়ে ৩ বছরের ছোট্ট যোদ্ধা আয়সা
নওগাঁর নিয়ামতপুরে বৈরী আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটের মধ্যেও বোরো ধান ঘরে তুলতে কৃষক পরিবারের নিরলস সংগ্রামের এক মানবিক দৃশ্য সবার নজর কেড়েছে। আর সেই দৃশ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শিশু আয়সা সিদ্দিকা।
চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলাজুড়ে শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নিজেরাই মাঠে নেমে ধান কাটার কাজ সম্পন্ন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার বেনীপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস আলীও বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে নিজ উদ্যোগে বাড়ির ধান কেটে মাড়াই শেষ করেন। পরে ভেজা খড় শুকানোর জন্য বাড়ির উঠানে ছড়িয়ে রাখা হয়।
কিন্তু খড় শুকানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশজুড়ে নেমে আসে কালো মেঘের ঘন চাদর। শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা। বৃষ্টি নামার আগেই খড় রক্ষায় পরিবারের বয়স্ক সদস্য থেকে শুরু করে তরুণ সবাই ছুটে আসেন উঠানে। যে যার মতো ব্যস্ত হয়ে পড়েন খড় তোলার কাজে।
ঠিক সেই সময় পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য আয়সা সিদ্দিকাও সবার সঙ্গে যোগ দেয়। ছোট্ট দুই হাতে খড় ধরার চেষ্টা, বড়দের দেখাদেখি কাজ করার আগ্রহ— মুহূর্তেই দৃশ্যটি সবার মন ছুঁয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আয়সা ঠিকভাবে কাজ করতে না পারলেও পরিবারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছিল।
আয়সার মা সুফিয়া খাতুন বলেন,আয়সার বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। এই বয়সেও সে আমার বিভিন্ন কাজে সাহায্য করার চেষ্টা করে। সবাই যখন খড় তুলছিল, তখন সেও ছোট ছোট হাতে খড় ধরতে শুরু করে।
কৃষক আক্কাস আলী বলেন,এইবার শ্রমিক সংকট আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক কষ্টে ধান ঘরে তুলতে হয়েছে। বৃষ্টি নামার আগেই খড় তোলার চেষ্টা করছিলাম। তখন মেয়েটাও আমাদের সঙ্গে কাজে নেমে পড়ে। ওকে দেখে কষ্টের মাঝেও ভালো লাগছিল।
স্থানীয়রা বলছেন, কৃষকের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুরা ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজ ও পরিবারের সংগ্রামের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠে। ছোট্ট আয়সার এই অংশগ্রহণও যেন সেই চিরচেনা গ্রামীণ জীবনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
এদিকে পরিবারের সবাই মিলে খড় তোলার কাজ শেষ করতেই শুরু হয় তীব্র বৃষ্টি। অল্পের জন্য রক্ষা পায় কৃষক পরিবারের কষ্টের গো-খাদ্য খড়।



