নিয়ামতপুরে ১৮ হাজারেরও বেশি কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে সহায়তায় আনসার-ভিডিপি
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের (ডিজি) বিশেষ নির্দেশনা এবং নওগাঁ জেলা কমান্ড্যান্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নওগাঁর নিয়ামতপুরে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এবার উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়োজিত থেকে চামড়া যাতে নষ্ট না হয় এবং সঠিকভাবে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা যায়, তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন বাহিনীর সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিয়ামতপুর উপজেলার ১৫টি নির্দিষ্ট চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পয়েন্টে মোট ৪৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে এই এলাকায় প্রায় ১৮ হাজারেরও বেশি কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চামড়া যেন দেশের একটি মূল্যবান সম্পদ, তাই এটি যাতে কোনোভাবেই পচে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা সরাসরি মাঠে নেমে চামড়ায় লবণ দেওয়া ও তা প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের কাজে প্রত্যক্ষ সহায়তা দিচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন চামড়ার আড়ত ও পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে চামড়া সংরক্ষণের তদারকি করছেন। তারা চামড়া ব্যবসায়ীদের চামড়া দ্রুত লবণজাতকরণে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নিজেরাও হাত মিলিয়ে কাজ করছেন। একই সাথে চামড়া পাচার রোধ এবং আড়তগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও তারা সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।
স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা জানান, “কোরবানির ঈদের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে চামড়ায় লবণ দিতে না পারলে তা নষ্ট হয়ে যায়। এবার আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সরাসরি সাহায্য পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে চামড়াগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে পারছি। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় একটি সহায়তা।”
নিয়ামতপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জানান, “মাননীয় মহাপরিচালক মহোদয়ের নির্দেশনা এবং জেলা কমান্ড্যান্ট মহোদয়ের সুনির্দিষ্ট তত্ত্বাবধানে আমাদের সদস্যরা নিয়ামতপুরের ১৫টি পয়েন্টে কাজ করছেন। চামড়া জাতীয় সম্পদ, এর অপচয় রোধ এবং সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আমাদের এই কার্যক্রম চামড়া পুরোপুরি সংরক্ষিত হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।”
জাতীয় অর্থনীতিতে চামড়া শিল্পের অবদান রক্ষার্থে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় জনসাধারণের মাঝেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে।








