সারাদিন বিছানায় অলস সময় কাটানোর অভ্যাস কি ডেকে আনছে বিপদ?
টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন লাইফস্টাইল ট্রেন্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে ‘বেড রটিং’—অর্থাৎ ঘুমানোর জন্য নয়, বরং দিনের বড় একটি সময় বিছানায় শুয়ে অলসভাবে কাটানোর অভ্যাস।
‘বেড রটিং’-এর ক্ষেত্রে অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিছানায় শুয়ে সিনেমা বা সিরিজ দেখা, খাবার খাওয়া, ল্যাপটপে কাজ করা কিংবা মোবাইলের স্ক্রিন স্ক্রল করে সময় কাটান। কর্মব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিশ্রামের উপায় হিসেবে বিষয়টি অনেকের কাছে স্বস্তিদায়ক মনে হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে এ অভ্যাস চালিয়ে গেলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিছানাকে ঘুমের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিনোদন, কাজ বা সামাজিক যোগাযোগের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করলে মস্তিষ্কের কাছে বিছানার সঙ্গে ঘুমের স্বাভাবিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পরও সহজে ঘুম না আসা, অনিদ্রা কিংবা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বাড়তে পারে একাকিত্ব ও বিষণ্নতার ঝুঁকি
দীর্ঘ সময় বিছানায় পড়ে থাকার ফলে ব্যক্তি ধীরে ধীরে পরিবার, বন্ধু ও বাইরের সামাজিক পরিবেশ থেকে দূরে সরে যেতে পারেন। নিয়মিতভাবে এভাবে সময় কাটানোর অভ্যাস সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়াতে পারে। এর ফলে মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
জমে যায় দৈনন্দিন কাজ, বাড়ে মানসিক চাপ
একটানা অলসভাবে সময় কাটালে পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা ব্যক্তিগত দায়িত্বগুলো জমতে থাকে। পরে এসব কাজ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে মানসিক চাপ ও অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে সাময়িক বিশ্রাম নেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তি আরও বেশি ক্লান্ত ও চাপে পড়ে যেতে পারেন।
কীভাবে নিরাপদে বিশ্রাম নেওয়া যায়?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন হলে বিছানার পরিবর্তে সোফা, ইজি চেয়ার কিংবা বারান্দার মতো জায়গা ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বিছানার সঙ্গে ঘুমের সম্পর্কটি বজায় থাকে।
এ ছাড়া বিশ্রামের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করা, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের পরিবর্তে বই পড়া, গান শোনা, মেডিটেশন কিংবা হালকা শরীরচর্চায় সময় দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সাময়িক বিশ্রাম শরীর ও মনের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও, সেটি যেন দীর্ঘস্থায়ী নিষ্ক্রিয়তায় পরিণত না হয়—সেদিকে খেয়াল রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।








